Monday, October 24, 2022

মেঘের দিন

 ঘুম ভাঙে জানলার কাচে বৃষ্টির ছাটের শব্দে। বৃষ্টি দেখে ঘুম আরও গাঢ় হলো। ঘুম ভেঙে জালনা খোলে বসে আছি কখন থামবে বা কমবে বৃষ্টি৷ থামার আর নাম নেই। এক সময় সময় যখন খুব টাইট তখন বের হই৷ রাস্তায় জনমানবহীন অনেকটা। যেন আজ কারও কাজ নেই। যাদের আছে তারা সবাই হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যাচ্ছে স্বল্প চলা রিকশাগুলোর দিকে৷ আমি মাথায় ব্যাগ দিয়ে অল্প একটু হেঁটেই পুরো কাকভেজা অবস্থা। তখন একটা থরথর করে কেঁপে রিকশা চালিয়ে একজন বৃদ্ধ আসছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম কাটাবন যাবেন। উনি রেগুলার ভাড়া থেকে ১০ টাকা বেশি চাইলেন। আমি রীতিমতো অবাক। এমন থমথম গমগম আবহাওয়ায় ওনার চাহিদা এত কম। আমি বললাম চলেন অসুবিধা নাই৷ আমি তখনও পর্যন্ত জানি না যে আজকে এই ভয়াবহ অবস্থার কারণ কী! আমার কাছে ফাঁকা ঢাকায় রিকশা ভ্রমণ ভালোই লাগছিল। হঠাৎ এই ভালো লাগা থেমে গেল একটা পোস্ট দেখে যে, যারা এই বৃষ্টি দেখে খুশি হচ্ছেন তারা নাকি মানুষের বাচ্চা না। কারণ সিত্রাংয়ের ঝুঁকিতে আছে উপকূলবাসী৷ 


কিছুক্ষণ নিজের সঙ্গেই কুতর্ক করলাম। যে অন্যের দুঃখে আমরা দুঃখী হওয়ার যতটা ভং ধরি সত্যিই কি অতটুক দুঃখী হওয়া সম্ভব। কিংবা সম্ভব হলেও এটা সহজাত নাকি রপ্ত করা অন্যেরটা দেখে। যে এই এই ব্যাপারে আমাদের এমন করতে হবে? 


এও ভাবলাম যে, পৃথিবীতে প্রতিদিন নানান দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। খুন খারাবি হচ্ছে। ওগুলোর জন্য কী আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রম বাদ রাখি। তাহলে এখন কেন আমাদের এই যতটুক পারা যায় আনন্দ করলে অপরাধ কেন হয়ে যাবে! 


কিন্তু সব দুনামুনার অবসান ঘটালাম একটু সরল হয়ে যে, একই দেশের মানুষ, তাদের বিপদের সময় আমাদের একটু সহানুভূতিশীল আচরণ তো করতেই পারি। আনন্দ নাই বলেই না হুদাই নানান আনন্দ দেখাই। এই সময়গুলোতে নরমাল আচরণ ভালো।

মেঘের দিন

 ঘুম ভাঙে জানলার কাচে বৃষ্টির ছাটের শব্দে। বৃষ্টি দেখে ঘুম আরও গাঢ় হলো। ঘুম ভেঙে জালনা খোলে বসে আছি কখন থামবে বা কমবে বৃষ্টি৷ থামার আর নাম ন...